বিবাহ হল আমাদের জীবনের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়/ঘটনা।বিবাহ আমাদের জীবনকে এক নতুন দিশা প্রদান করে।আমরা জীবনে যতই উপার্জন করি এবং যতই সফল হইনা কেন, যদি আমাদের সংসার জীবন সুখের না হয় তাহলে জীবন একান্তই নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। সুতরাং বিবাহের পূর্বে কুষ্টির মিলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি দুটি মানুষ একে অপরের পরিপূরক/উপযুক্ত একেবারেই না হয় তাহলে এক সঙ্গে জীবন যাপন করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা অনেক সময়ই আমাদের জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা নিয়ে খুবই সাবধানী ও সংশয়ী হয়ে পড়ি এবং অনেক সময় কিছু ভ্রান্ত ধারণা আমাদের মধ্যে অযথা ভীতির সঞ্চার করে।
কুষ্টির মিলনের সবথেকে জনপ্রিয় জিনিস হল জন্ম নক্ষত্রের মধ্যে তুলনার দ্বারা পয়েন্ট পরীক্ষা করা।জন্ম নক্ষত্র কী ? আমাদের জন্মকুষ্টির মধ্যে চন্দ্রস্থানের নক্ষত্রই হল জন্ম নক্ষত্র।এটি অষ্টকূট মিলন বলে পরিচিত।
অষ্টকূট গুণের মিলন হল একটি পদ্ধতি যেখানে চন্দ্রকে মূল স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহার করে ৮টি ভিন্নপর্যায়ের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে বিস্তারিতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করাহয়।পর্যায় গুলি হল নাডী় (৮পয়েন্ট), ভা (৭), গণ (৬), গ্রহমৈত্রম (৫), যোনি (৪), তারা (৩), বশ্য (২),এবং বর্ণ (১) যেটা ৩৬ পর্যন্ত যুক্ত করে।যদি একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য একটি নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে মিলিত না হয়, তাহলে তখন স্থান এবং পরিস্থিতি উপরে নির্ভর করে সার্বিক অথবা আংশিকভাবে পয়েন্ট বিয়োজিত হয়।সাধারণত ১৮ পয়েন্টের উপর ঠিকঠাক ধরা হয়।কিন্তু এটি একেবারেই একটি প্রাথমিক পদ্ধতি।এমনকি ৩৬ পয়েন্ট প্রাপ্তিও আপনার সুখী দাম্পত্য জীবনকে সুনিশ্চিত করে না।
এইপর্যায় গুলিতে মানুষ গণমিলন সম্পর্কে খুব কৌতুহলী ও সন্দেহপ্রবণ হন।গণ ৩প্রকার-দেব, মনুষ্য বা নর এবং রাক্ষস। রাক্ষস গণের মহিলাদের প্রতি লোকেদের প্রায়শই একটা আশঙ্কা থাকে। এমনকি তারা চূড়ান্তভাবে এও মনে করেন যে মনুষ্য গণের কোনো পুরুষের সঙ্গে যদি রাক্ষস গণের কোনো মহিলার বিবাহ সম্পন্ন হয় তাহলে পুরুষটির মৃত্যু ঘটবে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভাবে একটি ভ্রান্ত ধারণা।
প্রকৃত পক্ষে গণ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিকে সূচিত করে। মানুষকে ৩ টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয় – ১.বিশ্লেষণাত্মক,২.সমন্বয়ী ৩.রক্ষণশীল।
- জ্যোতিষের প্রয়োজনীয়তা কি এবং আমাদের জীবনে এর ভূমিকা
রাক্ষস গণের লোকেরা প্রথম শ্রেণী (বিশ্লেষণাত্মক) ভুক্ত। দেবগণের লোকেরা দ্বিতীয় শ্রেণী (সমন্বয়ী) ভুক্ত এবং মনুষ্য গণের লোকেরা তৃতীয় শ্রেণী (রক্ষণশীল) ভুক্ত।
সুতরাং দেব গণের লোকেরা খুবই সৃষ্টিশীল এবং নমনীয় চরিত্রের হন। তারা খুব ভদ্র,সংযত ও সংবেদনশীল হন।
রাক্ষস গণের লোকেরা সবসময় পরিস্থিতিকে তাদের যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে থাকেন। তারা খুব সমালোচনা মূলক হতে পারেন। তারা অচল চিরাচরিত পদ্ধতির পরিবর্তন করতে চান।
মনুষ্য গণের লোকেরা প্রচন্ড রক্ষণশীল ও গতানুগতিক ধারার হন। তারা তাদের পরম্পরাকে ভালোবাসেন এবং এতেই নিশ্চল থাকতে চান। তারা সাধারণত খুব বাস্তববাদী, বিনয়ী ও কঠোর পরিশ্রমীহন।
পড়ুন: জন্মপত্রিকা থেকে কিভাবে বিবাহের সময় গণনা করবেন
এখন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আপনার গণ সম্বন্ধে জানবেন। আপনার জন্ম নক্ষত্র অথবা চন্দ্রের নক্ষত্র একে নিশ্চিত করবে। নীচের তালিকা থেকে আপনার জন্ম নক্ষত্র দেখে নিন, তাহলেই আপনি আপনার গণ সম্বন্ধে অবগত হবেন।
দেব গণ নক্ষত্র সমূহ–অশ্বিনী, মৃগশিরা, পুনর্বাসু, পুষ্যা, হস্ত, স্বাতী, অনুরাধা, শ্রবণা, রেবতী
মনুষ্য গণ নক্ষত্রসমূহ–ভরণী, রোহিণী, আদ্রা, পূর্বফাল্গুনী, উত্তরফাল্গুনী, উত্তরাষাঢ়া, পূর্বভদ্র, উত্তরভদ্র
রাক্ষস গণ নক্ষত্র সমূহ–কৃত্তিকা, অশ্লেষা, মাঘা,চিত্রা, বিশাখা, জ্যেষ্ঠা, মূলা,ধনিষ্ঠা, শতভিষা
এটা বলা হয় যে একই গণের মধ্যে বিবাহ হল যথার্থ, অন্যথায় চরিত্রগত পার্থক্যের কারণে ভুল বোঝাবুঝির উদয় হয়। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে চরিত্র বা ব্যবহার শুধুমাত্র গণের ওপর নির্ভর করে না। রাশি গুলি দেখলে আমরা দেখতে পাব বৃষ, সিংহ, বৃশ্চিক এবং কুম্ভ রাশির জাতকেরা রক্ষণশীল চরিত্রের হয়।সুতরাং এই রাশি গুলিতে অবস্থিত চন্দ্র বা লগ্নের জাতকেরা রক্ষণশীল চরিত্রের হন অথবা প্রায় মনুষ্য গণের জাতকের ন্যায় হন।একই ভাবে আমরা বলতে পারি মিথুন, কন্যা, ধনুও মীন রাশি হল বিশ্লেষণাত্মক প্রতীক।সুতরাং এই রাশির লগ্নের জাতকেরা বিশ্লেষণাত্মক চরিত্রের হন অথবা প্রায় রাক্ষসগণের জাতকের ন্যায় হন।
আমার বিনম্র মত অনুযায়ী যদি আমরা কোনো ব্যক্তির চরিত্র বা ব্যবহার শুধু মাত্র নক্ষত্রের দিক থেকে বিচার করি তাহলে আমরা ভুল হতে পারি। উপরন্তু গণ মিলনের শুধুমাত্র ৬পয়েন্ট আছে ৩৬ এর মধ্যে, সুতরাং গণ সম্বন্ধে আমাদের খুব একটা উদ্বিগ্ন হওয়া অনুচিত। এমনকি সমস্ত অষ্টকূট গুণমিলনের উপরেও আমাদের অত্যধিক নির্ভর করা উচিৎ নয়। বরং সামঞ্জস্য দেখার জন্য আমাদের উভয় তালিকাকেই পৃথকভাবে পরীক্ষা করা উচিৎ।
জন্মপত্রির মিলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এটি কেবল মাত্র গুণমিলন বা অষ্টকূট মিলনের চেয়ে বেশি হওয়া উচিৎ। তালিকা গুলো পূণার্ভূ দোষ মুক্ত হওয়া উচিৎ। সমস্ত গ্রহের বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান হওয়া উচিৎ।
জন্মপত্রির মিলন আপনার প্রেম জীবনেও সহায়তা করতে পারে। পড়ুন কিভাবে জ্যোতিষশাশ্ত্রের সাহায্যে প্রেম জীবনকে আরও উন্নত করে তুলবেন।
যদি আপনার এটা পছন্দ হয় তবে দয়া করে শেয়ার করুন যাতে আরও বেশি মানুষকে এর সম্বন্ধে সচেতন করা যায়।
যদি আপনি আমাকে দিয়ে পাত্র পাত্রীর জন্মপত্রির মিলন ঘটাতে চান তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য এইখানে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ..