কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধি

কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধি – জ্যোতিষশাশ্ত্রের দ্বারা অর্থ ও সম্পদ গণনা/বিচার

সমগ্র জগৎ অর্থ অথবা সম্পদকে ঘিরে আবর্তিত হয়। সুতরাং যেকোনো কুষ্টিতে লক্ষ্য করার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাকে নিয়ে আরও অনেক জ্যোতিষীই প্রচুর মানুষের প্রশ্নের সম্মুখীন হন, যেমন তারা ভবিষ্যতে ধনী হবেন কিনা। বর্তমান সময়ে অর্থ উপার্জনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। মানুষ অর্থের জন্য তার পরিবারকে অবহেলা এমনকি সম্পর্ক বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করে না। সুতরাং কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধি গণনা পদ্ধতি ও জ্যোতিষশাশ্ত্রে সম্পদের প্রধান সূচক গুলি সম্বন্ধে আমি আপনাদের কিছু প্রাথমিক ধারণা দেব।

জ্যোতিষশাশ্ত্রে সম্পদের প্রত্যাশার জন্য প্রধান স্থান সমূহ

কুষ্টিতে ২য় স্থান ধন ভব বলে পরিচিত এবং এটি অর্থ বা সম্পদকে সূচিত করে। কুষ্টিতে অর্থ ও সম্পদের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার জন্য এই স্থানের শক্তি, পতি ও সূচককে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ২য় স্থানের সাথে সাথে ১১তম, ৬ষ্ঠ ও ১০ম স্থানের মূল শক্তিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আসলে ২য়, ৬ষ্ঠ এবং ১০ম স্থান অর্থ ত্রিকোণ বলে পরিচিত। কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই স্থান গুলি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের জীবন প্রধানতঃ ৪টি স্তম্ভের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যথা- ধর্ম বা কর্তব্য, অর্থ বা সম্পদ, কাম বা ইচ্ছাপূরণ এবং মোক্ষ বা আত্মার মুক্তি। ১ম, ৫ম ও ৯ম স্থান ধর্মের স্থান, ২য়, ৬ষ্ঠ ও ১০ম স্থান অর্থের স্থান, ৩য়, ৭ম ও ১১তম স্থান কামের স্থান এবং ৪র্থ, ৮ম ও ১২তম স্থান হল মোক্ষ স্থান। একজন ব্যক্তির পেশা ও উপার্জনের ক্ষেত্রে অর্থ স্থান গুলির প্রবল প্রভাব রয়েছে।

অর্থ স্থান গুলি সম্পর্কে আরও জানুন

৬ষ্ঠ, ১০ম এবং ১১তম স্থান উপচয় স্থান নামেও পরিচিত। এর অর্থ এই স্থানগুলি ব্যক্তিকে সমস্যার মোকাবিলা ও যেকোনো বাধা অতিক্রম করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও ক্ষমতা দেয়। একজন ব্যক্তি, যিনি অর্থ উপার্জন করতে চান তার মধ্যে এই গুণ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আর্থিক উন্নতির পথে তাকে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়।

সুতরাং এই ভাবে আমরা সংক্ষেপে বলতে পারি যে কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধি বিচারের ক্ষেত্রে ২য় স্থান সঞ্চিত অর্থ, সম্পত্তি ও পুঁজিকে সূচিত করে, ১১তম স্থান আর্থিক প্রাপ্তি ও উপার্জনকে সূচিত করে, ১০ম স্থান পেশাগত সাফল্য ও সামাজিক স্বীকৃতিকে সূচিত করে এবং ৬ষ্ঠ স্থান বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করাকে সূচিত করে। সুতরাং ১০ম এবং ৬ষ্ঠ স্থান সমর্থনকারী স্থান হিসেবে কাজ করে।

কিন্তু আরও কিছু স্থান আছে যাদের সঙ্গে অর্থ বা সম্পদের হয়তো কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, কিন্তু তাদের সাহায্য ছাড়া কোনো কিছুই অর্জন করা যাবে না, যেমন- লগ্নস্থ গ্রহ বা লগ্ন এবং ৯ম স্থান। লগ্ন হল আমাদের শারীরিক অস্তিত্ব এবং ৯ম স্থান হল আমাদের ভাগ্য বা অদৃষ্ট। যদি লগ্নস্থ গ্রহ বা তার পতি দুর্বল হয়, তাহলে সমস্ত কুষ্টি দুর্বল হয়ে পড়ে। যদি ভিত বা বুনিয়াদ দুর্বল হয়, তবে আপনি তার ওপরে কোনো বড় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারবেন না। যদি লগ্নস্থ পতি ৮ম স্থানে বা ১২তম স্থানে অশুভ ভাবে অবস্থান করে এবং ক্ষতিকর গ্রহের দ্বারা পীড়িত হয়, তখন এটি কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধির ওপর বিরূপ বা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যদি লগ্ন এবং লগ্নস্থ পতি, ১০ম স্থান অথবা ২য় স্থান এবং তার পতির সঙ্গে যুক্ত হয় তবে বৈদিক জ্যোতিষশাশ্ত্র অনুযায়ী এটি সম্পদ ও সমৃদ্ধির জন্য খুবই শুভ সংযোগ। ২য় স্থান সম্পদের পতি এবং ১১তম প্রাপ্তি স্থানের পতির মধ্যে পারস্পরিক বিনিময়ের ফলে মহালক্ষী যোগ সৃষ্টি হয় যা অর্থ-প্রতিপত্তির জন্য খুবই অনুকূল সংযোগ।

 কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য দায়ী প্রধান গ্রহ সমূহ

যেকোনো কুষ্টিতে সম্পদের প্রধান সূচক হল চন্দ্র এবং বৃহস্পতি। শুক্র জীবনে বিলাস-বৈভব, স্বাচ্ছন্দ্য দান করে। শুক্রের আশীর্বাদ ছাড়া আমরা কোনো কিছুই উপভোগ করতে পারি না। সুতরাং শুক্র,বৃহস্পতি ও চন্দ্রের শুভ অবস্থান ব্যক্তিকে ধনী করে।

বুধ শুধুমাত্র বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানের গ্রহই নয়, একবিংশ শতাব্দীতে/একুশ শতকে এটি আর্থিক প্রাপ্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি জন্ম কুষ্টিতে বুধের অবস্থান শুভ হয় তখন তা ব্যবসায় সাফল্য ও আর্থিক সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। জন্ম কুষ্টিতে উচ্চস্থ বুধের অবস্থান হল আর্থিক স্থিতিশীলতার পক্ষে আশীর্বাদ।

 

জ্যোতিষশাশ্ত্রে সম্পদের প্রসার ও গুরুত্ব জানার উপায়

আমরা চারপাশে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তিদের দেখি। কেউ লাখপতি, কেউ বহুলক্ষপতি, এমনকি অনেকে বহুকোটি টাকার মালিকও হন। সবাই দারুণ আর্থিক অবস্থার অধিকারী হন কিন্তু সর্বক্ষেত্রে ব্যাপ্তি বা প্রসার এক হয় না। সুতরাং কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধির প্রসার জানবার পদ্ধতি লক্ষ্য করে দেখা যাক।

 

যেকোনো কুষ্টিতে যেসব গ্রহ অর্থ ও সম্পদ দান করে বলে মনে করা হয় তাদের শক্তি আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যেকোনো লগ্ন থেকে নয়, বরং কিছু বিশেষ লগ্ন থেকে আমাদের এই পরীক্ষা করতে হবে, যে গুলি হল- অরুধা লগ্ন, ইন্দু লগ্ন এবং শ্রী লগ্ন। আমাদের সম্পদের জন্য বিভাগীয় কুষ্টি পরীক্ষা করে দেখতে হবে যেটি হোরা কুষ্টি বা D2 কুষ্টি বলে পরিচিত। বিভাগীয় কুষ্টি যত শক্তিশালী হবে, ব্যাপ্তি ও প্রসার ততই বেশি হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে প্রধান রাশি কুষ্টির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে কারণ কোনো বিভাগীয় কুষ্টিই রাশি কুষ্টির সাহায্য ব্যতীত ফল দান করতে পারে না।

 

অরুধা লগ্ন কি ?

অরুধা লগ্ন হল অন্যের কাছে আপনার লগ্নের ভাবমূর্তি। এটি অনেকটা প্রতিবিম্বের মতো। কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অন্যদের অনুমান বা ধারণা নিয়ে এটি আমাদের সূত্র দেয়। যেমন, যদি কোনো ব্যক্তি BMW গাড়ি থেকে নেমে আসেন তখন আমরা সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্তে চলে আসি যে তিনি অত্যন্ত ধনী, যা সত্যি হতে পারে আবার নাও হতে পারে। এটা হতে পারে যে তিনি ঐ গাড়িটির মালিক নন। এটিই হল অরুধা লগ্নের ভূমিকা। সুতরাং পার্থিব বা বস্তুগত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অরুধা লগ্ন কিভাবে গণনা করবেন

লগ্নস্থ গ্রহ থেকে তার পতির অবস্থানের স্থান গণনা করুন। এরপর একইভাবে লগ্নস্থ গ্রহের পতির থেকে স্থান সংখ্যা গণনা করুন। এইভাবে আমরা যে স্থানে পৌঁছাবো তাই হল অরুধা লগ্ন। যেমন আপনি হয়তো মেষ লগ্নস্থ এবং আপনার লগ্নস্থ পতি মঙ্গল সিংহ তে অবস্থান করছে। তাই লগ্নস্থ গ্রহ থেকে সিংহ গণনা করুন। এটির দূরত্ব ৫ রাশি। এখন সিংহ থেকে ৫ রাশি গণনা করুন। এটি ধনু রাশি হবে। সুতরাং ধনু হবে আপনার অরুধা লগ্ন।

কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে অরুধা লগ্ন থেকে ৩য়, ৬ষ্ঠ, ১০ম ও ১১তম স্থানের গ্রহ গুলি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্দু লগ্ন এবং শ্রী লগ্ন বিশেষত কুষ্টিতে আর্থিক সম্ভাবনা লক্ষ্য করে দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়। ইন্দুর অর্থ সম্পদ এবং শ্রী মানে সমৃদ্ধি। সুতরাং এই দুটিকে কেবলমাত্র কুষ্টিতে সম্পদের ইঙ্গিত পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যদি কোনো উচ্চস্থ গ্রহ ইন্দু লগ্নের সঙ্গে যুক্ত থাকে অথবা ইন্দু লগ্নে দৃষ্টি দেয় তখন তা উত্তম আর্থিক অবস্থার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। যত বেশি গ্রহ ইন্দু লগ্নের সঙ্গে যুক্ত হয় বা ইন্দু লগ্নে দৃষ্টি দেয়, সম্পদের ব্যাপ্তি তত বেশি হয়। যদি কোনো নীচস্থ গ্রহ তার উচ্চস্থ রাশিতে শ্রী লগ্নে দৃষ্টি দেয়, তখন এটি ব্যক্তির ফকির থেকে ধনী হওয়াকে ইঙ্গিত করে।

 

কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধি পরীক্ষা করার জন্য নীতি সমূহ

  • বৃহস্পতিযদিনিজরাশিতেঅথবাউচ্চস্থরাশিতেঅবস্থানকরেতখনব্যক্তিআর্থিকদিকথেকেখুবভাগ্যবানহন। বৃহস্পতিহলসমগ্ররাশিচক্রেরসবচেয়েলাভদায়কগ্রহ।
  • লগ্নস্থগ্রহে২য়ও১১তমস্থানেরপতিদেরসংযোগহলকুষ্টিতেএকটিপ্রথমসারিরসম্পত্তিযোগ।
  • পড়ুন:বিভিন্নলগ্নস্থগ্রহেরক্ষেত্রে১১তমপতির২য়স্থানেঅবস্থানেরফল
  • ১ম, ২য় ও ১১তম স্থানের পতি নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করলে তা ব্যক্তিকে অত্যন্ত ধনী করে তোলে।
  • যদি ৭ম এবং ৮ম স্থান শক্তিশালী হয় তখন ব্যক্তির আর্থিক অবস্থার উন্নতি বিবাহের পরে হয়।
  • ২য় পতি ও বুধের সাথে বৃহস্পতি যুক্ত হয়।
  • ২য় ও ৫ম পতির মধ্যে পারস্পরিক বিনিময়। ৫ম স্থানের অবস্থান হল ৯ম স্থান থেকে নবম। সুতরাং ভবৎ ভবম্ নীতি অনুসারে এটি ভাগ্যের গৌণ স্থান। উপরন্তু এটি ত্রিকোণ স্থানের মধ্যে অন্যতম। আমরা জানি যে ত্রিকোণ স্থান গুলি লক্ষ্মীস্থান বা সম্পদস্থান বলে পরিচিত।
  • চন্দ্রের ওপর সূর্যের দৃষ্টি হল কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য খুবই লাভজনক।
  • বিভাগীয় কুষ্টি D2 অথবা হোরা কুষ্টিতে যদি একাধিক গ্রহ উচ্চস্থ রাশি বা নিজ রাশিতে অবস্থান করে তখন তা গড়পড়তা বা মাঝারি ধরনের থেকে অধিক সম্পদের ইঙ্গিত।
  • বৃহস্পতি ও শুক্র, উচ্চস্থ রাশি বা নিজ রাশি অথবা লগ্নস্থ গ্রহে অবস্থান করলে আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। চন্দ্র বা ২য় স্থান অথবা ২য় পতির ওপর বৃহস্পতির দৃষ্টি দিলে তাও খুব লাভজনক।
  • ৮ম স্থানে লাভদায়ক গ্রহের অবস্থান ব্যক্তিকে উত্তরাধিকার সূত্রে, লটারিপ্রাপ্তি অথবা শেয়ার বাজার সূত্রে ধনী করে। ৮ম স্থানে বুধের উপস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি ঘটায়। একইভাবে ১২তম স্থানে শুক্রের উপস্থিতিও আর্থিক প্রাপ্তি দেয়।

এটি মনে রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে সম্পদের সূচক(ধন-কারক)যখন কার্যকরী ক্ষতিকারক হিসেবে কাজ করে এবং অন্যান্য ক্ষতিকর গ্রহের সাথে যুক্ত হয় অথবা দৃষ্টি দেয়, কিংবা ক্ষতিকর স্থান যেমন ৬ষ্ঠ, ৮ম বা ১২তম স্থানে অবস্থান করে তখন সেই গ্রহ আর্থিক সমৃদ্ধির পক্ষে ক্ষতিকর হবে। এই অবস্থান চলাকালীন ব্যক্তি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এই ধরণের ক্ষতিকর প্রভাবের ফলে অনেক কোটিপতি ব্যবসায়ীও দেউলিয়া/নিঃস্ব হয়ে যান এবং দারিদ্র্যে উপনীত হন। আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে ব্যক্তির আর্থিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে দশা এবং এই গমনের এক বিরাট ভূমিকা থাকে।

জ্যোতিষশাশ্ত্রে কোনো নিয়মই যেমন আছে তেমনভাবেই প্রয়োগ করা উচিৎ নয়। প্রত্যেকটি নীতির সঙ্গেই অনেক যদি এবং কিন্তু/সংশয় জড়িয়ে থাকে যা প্রভাব/ফল কে অনেকখানি পরিবর্তিত করে। সেইজন্যই একটি নীতি একটি কুষ্টিতে কার্যকর হলেও অন্য কুষ্টিতে কার্যকরী নাও হতে পারে। এই নীতিগুলি বোঝার জন্য নীতিগুলিকে আমাদের কমপক্ষে ৫০-১০০টি কুষ্টিতে প্রয়োগ করে দেখতে হবে। তাহলেই আমরা এগুলো ব্যবহার করার পদ্ধতি বুঝতে সক্ষম হব।

কুষ্টিতে আর্থিক সমৃদ্ধি পরীক্ষা/গণনা করার একটি প্রাথমিক ধারণা আমি আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করলাম। যদি কিছু ভুলে গিয়ে থাকি তাহলে কমেন্ট করুন। আপনি আপনার কুষ্টিতে এই নীতিগুলি প্রয়োগ করার পর তার ফল শোনার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম।

যদি পছন্দ হয় তবে শেয়ার করতে ভুলবেন না এবং একান্তই AstrologyLover দের জন্য তৈরী এই group  যোগদান করুন।

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.

Scroll to Top