বিবাহের সম্ভাবনা, সঙ্গীর বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র প্রভৃতি পরীক্ষা করে দেখার জন্য নভমসা হল প্রধান বিভাগীয় কুষ্টি। আমাদের মূল জন্মকুষ্টি জীবনের নানান ক্ষেত্র- শিক্ষা, অর্থ, পেশা, বিবাহ প্রভৃতি সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু কোনো একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও ভালো ও সূক্ষতর ধারণা লাভ করার জন্য আমাদের বিভাগীয় কুষ্টি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিভাগীয় কুষ্টি রয়েছে, যেমন বিবাহের জন্য নভমসা, পেশার ক্ষেত্রে দশমসা পরীক্ষা করতে হবে। এখানে আমরা নভমসা কুষ্টি থেকে সঙ্গী গণনা করার পদ্ধতি আলোচনা করব। নভমসা কিছু কিছু সময় ধর্মম্সা বলেও পরিচিত হয়। রাশি কুষ্টির পরে এটি হল সবচেয়ে জনপ্রিয় কুষ্টি। সুতরাং যদি আপনি নভমসা থেকে সঙ্গীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন, মনে রাখবেন এটি নভমসা থেকে বিবাহের সময় গণনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
বিবাহের সম্ভাবনা গণনা করার জন্য নভমসা ব্যবহারের কারণ
নভমসা কুষ্টি হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় কুষ্টি। যদি রাশি কুষ্টি মূল বৃক্ষ/গাছ হয় তবে নভমসা কুষ্টি হল সেই গাছের ফল। আমরা সবকিছুই নভমসা কুন্ডলীর থেকে বিচার করতে পারি কিন্তু বিশেষভাবে বিবাহকেই নভমসা থেকে বিচার করা হয়। যেকোনো রাশিকে ৯টি অংশে ভাগ করে আমরা নভমসা কুষ্টি স্থাপন করতে পারি। ৯ম স্থান হল ধর্ম বা ভাগ্যের স্থান। হিন্দু ধর্মে বিবাহকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ধর্ম বা কর্তব্য বলে গণ্য করা হয়। এটি হল আত্মার মিলন। এইজন্যই আমরা নভমসা কুষ্টি থেকে বিবাহ গণনার চেষ্টা করি।
নভমসা কুষ্টি থেকে সঙ্গীর বৈশিষ্ট্য অথবা চরিত্র বিশ্লেষণের পূর্বে হিন্দু ধর্মে বর্ণিত সকল প্রকার বিবাহ নিয়ে আলোচনা করা যাক
মনু স্মৃতিতে ৮ ধরণের বিবাহের বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলো নীচে দেওয়া হল-
১. ব্রাহ্ম বিবাহ: এই ধরণের বিবাহে পাত্র ক্ষমতা ও দক্ষতা অনুযায়ী পাত্রীর সন্ধান করেন। এই ধরণের বিবাহের প্রধান তাৎপর্যপূর্ণ গ্রহ হল বৃহস্পতি। এটিকে বিবাহের প্রকার বলে গণ্য করা হয়। আধুনিক যুগে আমরা একে সম্বন্ধ বিবাহের সঙ্গে তুলনা করতে পারি যেখানে ছেলে ও মেয়ে উভয়েই শিক্ষা সম্পূর্ণ করার পর পরিবারের মত অনুযায়ী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
২. দৈব বিবাহ: এই ধরণের বিবাহ তখনই ঘটে যখন একজন তার উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রীর সন্ধান পেতে অসমর্থ হন। এই ধরণের বিবাহে, বিবাহের জন্য নির্ধারিত অনুষ্ঠান বা উদযাপন হয় না, কিন্তু একটি গরীব পরিবারের মেয়ের বিবাহ ধনী ব্যক্তিদের দয়া বা অনুগ্রহ হিসেবে সম্পন্ন হয়। এই ধরণের বিবাহের প্রধান তাৎপর্যপূর্ণ গ্রহ হল মঙ্গল।
৩. অর্শ বিবাহ: এই ধরণের বিবাহে মেয়ের পরিবার বিবাহের খরচ বহন করতে অক্ষম/ অপারগ হন এবং পাত্রপক্ষ মেয়ের মূল্য হিসেবে নামমাত্র উপহার দিয়ে মেয়েকে ঘরে নিয়ে আসেন। এই ধরণের বিবাহ আধুনিক সমাজে উপযুক্ত নয়। এই ধরণের বিবাহের প্রধান তাৎপর্যপূর্ণ গ্রহ হল চন্দ্র।
৪. প্রজাপত্য বিবাহ: একটিমাত্র দিক ছাড়া এই বিবাহ সবদিক থেকেই ব্রাহ্ম বিবাহের মতো। শুধুমাত্র এই বিবাহ হওয়ার সময় পাত্রপাত্রী উভয়েরই বয়স অত্যন্ত অল্প হয়। বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলেও বৈবাহিক জীবন অনেক বছর ধরে অসম্পূর্ণ থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত পাত্রপাত্রী যথেষ্ট পরিণত বয়স্ক না হন। আগেকার দিনের বাল্যবিবাহের কথা এই সম্বন্ধে উল্লেখ করা যেতে পারে। সূর্য হল মূল তাৎপর্যমূলক গ্রহ।
৫. অসুর বিবাহ: এটি প্রায় অর্শ বিবাহের মতো। পাত্রের পরিবার পাত্রীর মূল্য হিসেবে পাত্রীর পরিবারকে প্রচুর অর্থ দিয়ে পাত্রীকে ঘরে আনে। একমাত্র পার্থক্য হল অর্শ বিবাহের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থ নামমাত্র হলেও এই বিবাহে প্রচুর সম্পদ প্রদান করা হয়। অর্থ এই ধরণের বিবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধরণের বিবাহকে সমাজে ভালো বলে গণ্য করা হয় না। এই ধরণের বিবাহের প্রধান তাৎপর্যপূর্ণ গ্রহ হল বুধ।
৬. গান্ধর্ববিবাহ: এই ধরণের বিবাহকে আধুনিক যুগের প্রেম ঘটিত বিবাহের সঙ্গে তুলনা করা যায় যেখানে পাত্র ও পাত্রী পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং প্রেমে পড়ে। এই ধরণের বিবাহের প্রধান তাৎপর্যপূর্ণ গ্রহ হল শুক্র।
৭. রাক্ষস বিবাহ: যখন কোনো কারণে কাউকে অপহরণ করে বা জোর করে বিবাহ করা হয় তখন তা রাক্ষস বিবাহ বলে গণ্য হয়। সাম্প্রতিককালে আমরা রাজনৈতিক প্রাপ্তি ও ব্যবসার প্রসারের উদ্দেশ্যে অনেক বিবাহ দেখতে পাই। প্রাচীনকালে রাজারা তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য এই ধরণের বিবাহ করতেন। শনি হল এই প্রকার বিবাহের প্রধান কারক।
৮. পিশাচ বিবাহ: এই ধরণের বিবাহে, বিবাহের সময় পাত্রীকে মত্ত বা বেহুঁশ করা হয় অথবা পাত্রী মানসিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে না। ধর্ষণকে এই ধরণের বিবাহের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এই ধরণের বিবাহের তাৎপর্যপূর্ণ গ্রহ হল রাহু/কেতু।
জ্যোতিষশাশ্ত্রে নভমসা থেকে সঙ্গী গণনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ
৭ম স্থান ও ৭ম পতি হল বৈবাহিক সঙ্গী গণনা করার ক্ষেত্রে প্রধান স্থান। সুতরাং আমাদের জন্মকুষ্টি থেকে ৭ম স্থান পরীক্ষা করার সাথে সাথে নভমসা কুষ্টির থেকেও ৭ম স্থানকে পরীক্ষা করতে হবে। জন্মকুষ্টিতে ৭ম স্থান আমাদের ইচ্ছা বা বাসনাকে সূচিত করে এবং নভমসা কুষ্টিতে ৭ম স্থান আমাদের বাস্তবে যা প্রাপ্তি হয় তাকে সূচিত করে। ৭ম স্থান শুধুমাত্র বিবাহকেই সূচিত করে না, এটি সব ধরণের শারীরিক সম্পর্ককেও সূচিত করে। সেইজন্যই কুন্ডলীতে সব ধরণের শারীরিক অথবা সংক্ষিপ্ত সময়ের সম্পর্কের জন্য ৭ম স্থানের অরুধাপদ(A7)পরীক্ষা করা প্রয়োজন। দারাপদ(A7)ও এসবের সাথে যুক্ত ব্যক্তিকে সূচিত করে। সুতরাং নভমসা কুষ্টির থেকে সঙ্গী গণনা করার সময় এই স্থানগুলি লক্ষ্য করা প্রয়োজন।
যদি শনি ৭ম স্থানে থাকে অথবা দারাপদ (A7)র সাথে সংযুক্ত থাকে তখন ব্যক্তি প্রায়ই বয়স্ক অথবা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তারা চান যে তাদের সঙ্গী একজন বাস্তববাদী, পরিণতমনস্ক এবং কর্তব্যপরায়ণ ব্যক্তি হোক।
যখন চন্দ্র ৭ম স্থানে থাকে অথবা দারাপদ (A7)র সাথে সংযুক্ত থাকে তখন ব্যক্তি একজন যত্নশীল, আবেগপ্রবণ এবং সংবেদনশীল সঙ্গীর কামনা করে।
যদি শুক্র ৭ম স্থানে থাকে অথবা A7-র সাথে যুক্ত থাকে তখন ব্যক্তি সুন্দর চেহারা বা রূপের সঙ্গীর কামনা করে।
যখন বৃহস্পতি অথবা বুধ ৭ম স্থানে থাকে অথবা দারাপদ (A7)র সাথে সংযুক্ত থাকে তখন ব্যক্তি তার স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে একজন জ্ঞানী, সুশিক্ষিত, ধার্মিক ও সৎ মানুষের খোঁজ করে।
যখন মঙ্গল ৭ম স্থানে থাকে অথবা A7-র সাথে সংযুক্ত থাকে তখন ব্যক্তি সঙ্গী হিসেবে একজন ক্রীড়াপ্রিয়, লড়াকু মনোভাব, সাহসী ও উদ্যমী মানুষের কামনা করে।
কিন্তু এটি একান্তই ব্যক্তির নিজস্ব ইচ্ছা বা বাসনা। কিন্তু বাস্তবে ব্যক্তির কতটা প্রাপ্তি বা ইচ্ছাপূরণ হবে তা নির্ভর করে নভমসায় ৭ম স্থান এবং ৭ম পতির নভমসা রাশির ওপর।
নভমসা(D9)থেকে বৈবাহিক সঙ্গীর বৈশিষ্ট্য গণনা
আমরা আগেই বলেছি যে নভমসায় ৭ম স্থানে অবস্থিত গ্রহ, ব্যক্তি যে সঙ্গী লাভ করতে যাচ্ছে তার চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের প্রদর্শন করে। নভমসায় দারাপদও(A7)সঙ্গীর চরিত্র, বৈশিষ্ট্য ও চেহারা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করে।
নভমসা কুষ্টি থেকে গ্রহের অবস্থান অনুযায়ী বৈবাহিক সঙ্গী গণনা
এখন নভমসা কুষ্টির থেকে সঙ্গী গণনা করা বা পরীক্ষা করার সময় কিভাবে আমরা তার প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত হব তা বোঝা যাক।
১. ৭ম স্থানে নভমসা সূর্য: যদি নভমসা সূর্য ৭ম স্থানে অবস্থান করে তখন সঙ্গী সঙ্গীত নিয়ে শিক্ষা লাভ করেন অথবা সঙ্গীতপ্রেমী হন কিংবা বাদ্যযন্ত্রে পটু হন। তিনি অহংকারী এবং উচ্চ আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন হতে পারেন। এদের মধ্যে খাটো উচ্চতা, বড় মাথা, খাড়া চুল প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যখন ৭ম স্থানে নভমসা সূর্য শক্তিশালী হয় তখন সেই ব্যক্তি একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে আসতে পারেন।
২. ৭ম স্থানে নভমসা চন্দ্র: যখন নভমসা চন্দ্র ৭ম স্থানে অবস্থান করে তখন সঙ্গী সুন্দর এবং খুবই আকর্ষণীয় হন। তার গায়ের রঙ পরিষ্কার ও তিনি নরম মনের হতে পারেন।
৩. ৭ম স্থানে নভমসা মঙ্গল: যদি নভমসা মঙ্গল ৭ম স্থানে অবস্থান করে অথবা নভমসায় A7-র সঙ্গে যুক্ত থাকে তখন ব্যক্তি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক স্বভাবের এবং গরম মেজাজের হতে পারেন। তিনি ক্রীড়াপ্রেমী হতে পারেন। যদি ৭ম স্থানে নভমসা মঙ্গল শক্তিশালী হয় তখন সেই ব্যক্তি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন এবং চেহারা ছিপছিপে ও ক্রীড়াবিদের ন্যায় হয়। তিনি অত্যন্ত তর্কপ্রিয়/যুক্তিবাগীশ হতে পারেন।
৪. ৭ম স্থানে নভমসা বুধ: যখন নভমসা বুধ ৭ম স্থানে অবস্থান করে তখন সঙ্গী আমুদে/হাসিখুশি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি সাহিত্য অনুরাগী হতে পারেন ও লিখতে পছন্দ করতে পারেন। ৭ম স্থানে নভমসা বুধের অবস্থানের ফলে সঙ্গীর দিক থেকে শারীরিক পরিতৃপ্তির অভাব দেখা যেতে পারে কারণ বুধ হল একটি নপুংসক গ্রহ। সঙ্গীকে তার বয়সের চাইতে অনেক কম বয়সী দেখতে হয়।
৫. ৭ম স্থানে নভমসা বৃহস্পতি: যখন নভমসা বৃহস্পতি ৭ম স্থানে অবস্থান করে তখন সঙ্গী সুশিক্ষিত, জ্ঞানী, সুন্দর, ভাগ্যবান, উত্তম প্রকৃতির এবং আধ্যাত্মিক মনের হতে পারেন। তিনি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শরীরের অধিকারী হতে পারেন। ৭ম স্থানে নভমসা বৃহস্পতির উপস্থিতি সঙ্গীকে অত্যন্ত ধার্মিক করে তুলতে পারে।
৬. ৭ম স্থানে নভমসা শুক্র: যদি নভমসা শুক্র ৭ম স্থানে থাকে তখন সঙ্গী খুব সুন্দর চেহারার হতে পারেন, বিলাসিতা ও আরামপ্রিয় হতে পারেন, সঙ্গীত ও শিল্পের অনুরাগী হতে পারেন। ৭ম স্থানে নভমসা শুক্রের উপস্থিতি হল একটি আশীর্বাদ। যদি পীড়িত না হয় তবে এটি সুখী দাম্পত্য জীবনের প্রবল ইঙ্গিত বহন করে।
৭. ৭ম স্থানে নভমসা শনি: ৭ম স্থানে নভমসা শনি অবস্থান করলে সঙ্গী পরিণত, সদা কর্মব্যস্ত, কর্তব্যপরায়ণ হন ও প্রেমের প্রতি অনীহা লক্ষ্য করা যেতে পারে। স্বামী অথবা স্ত্রী কঠোর পরিশ্রমী হবেন। ৭ম স্থানে নভমসা শনির অবস্থান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের অনেক পার্থক্যের সম্ভাবনাকেও ইঙ্গিত করে।
৮. ৭ম স্থানে নভমসা রাহু: যদি ৭ম স্থানে নভমসা রাহু অবস্থান করে তখন সঙ্গী সর্বদা চিন্তামগ্ন ও বিভ্রান্ত হতে পারে, বিমূর্ত চিন্তাভাবনা করে, জ্যোতিষশাশ্ত্র, গণিত প্রভৃতিতে পারদর্শী হতে পারে। এটিকে বিবাহের পক্ষে শুভ অবস্থান বলে গণ্য করা হয় না। ৭ম স্থানে নভমসা রাহু বিদেশে বিবাহ, বিদেশী সঙ্গী অথবা ভিন্ন জাতে বিবাহকেও ইঙ্গিত করে। আরও ধারণা পাওয়ার জন্য আপনি D1 কুষ্টিতে ৭ম স্থানে অধিকৃত রাহুর বিবাহের ওপর প্রভাব পড়ে দেখতে পারেন।
৯. ৭ম স্থানে নভমসা কেতু: যখন ৭ম স্থানে নভমসা কেতু অবস্থান করে তখন সঙ্গী গণিত, সংখ্যাতত্ত্ব, কম্পিউটার, আধ্যাত্মিক ক্ষেত্র প্রভৃতিতে দক্ষ হতে পারেন।
নভমসা কুষ্টি থেকে বৈবাহিক সঙ্গী বিচার করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ
একটি সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য প্রথমেই আমাদের D9 এ রাশি কুষ্টির (D1) ৭ম পতির পরিস্থিতি লক্ষ্য করে দেখতে হবে। নভমসায় গ্রহের নীচস্থ বা পীড়িত হওয়া চলবে না। এরপর আমাদের নভমসা কুষ্টির ৭ম স্থান এবং নভমসা লগ্ন থেকে ৭ম পতির পরিস্থিতি লক্ষ্য করতে হবে। যদি তারা সকলেই উত্তম অবস্থায় থাকে তখন আমরা নির্বিঘ্নে সুখী বৈবাহিক জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারি।
অনেক মানুষ যখন বিবাহ/সম্পর্ক নিয়ে পরামর্শ পাওয়ার জন্য আমাদের কাছে আসেন, তখন আমরা সঙ্গীর বৈশিষ্ট্য ও চেহারা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসার জন্য ওপরে উল্লিখিত সমস্ত পন্থা ও আরও অনেক পন্থা অবলম্বন করি। শুধুমাত্র বিবাহ বিশ্লেষণের জন্যেই প্রায় ৩ ঘন্টা সময় ব্যয় হয়। আমাদের বিবাহ সম্পর্কিত পরামর্শ নিয়ে আমাদের মক্কেলদের মতামত/চিন্তাভাবনা আপনি দেখতে পারেন।
পুরুষ এবং নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই শুক্র হল বিবাহের প্রধান সূচক। এটি পুরুষের কুষ্টিতে স্ত্রীরও সূচক। সুতরাং নভমসায় রাহু বা শনির দ্বারা শুক্রের নীচস্থ বা পীড়িত হওয়া উচিৎ নয়। যখন দুই বা ততোধিক ক্ষতিকর গ্রহ শুক্রকে পীড়িত করে এবং যদি আত্মকারক ও ৮ম পতি জড়িত থাকে তাহলে আমাদের মনে রাখতে হবে যে নভমসা কুষ্টি থেকে সঙ্গী বিচার করার ক্ষেত্রে এই ধরণের সংযোগ একটি অভিশাপ এবং এক্ষেত্রে বিবাহ অস্বীকৃত ও প্রচুর বিলম্বিত হতে পারে।
যদি রাহু শুক্রকে পীড়িত করে তখন সঙ্গীর দিক থেকে বৈবাহিক সম্পর্কে প্রতারিত হওয়ার অভিজ্ঞতা লাভের সম্ভাবনা থাকে। যদি নভমসা কুষ্টিতে শনি শুক্রকে পীড়িত করে তখন এটি অনির্বচনীয় দুর্দশা ও অন্তহীন ভোগান্তি নিয়ে আসে। যদি বুধ ও শুক্র নভমসা কুষ্টিতে সংযুক্ত থাকে তবে তা বৈবাহিক সুখের পক্ষে অশুভ সংযোগ।
D9 এ রাহু-শুক্র অথবা মঙ্গল-শুক্রের সংযোগ নভমসা কুষ্টিতে সঙ্গী বিচারের ক্ষেত্রে প্রেম ঘটিত বিবাহের প্রবল ইঙ্গিত।
যদি কেতু ও মঙ্গল নভমসা কুষ্টির ২য়, ৬ষ্ঠ, ৮ম অথবা ১২তম স্থানে সংযুক্ত থাকে তখন নভমসা কুষ্টি থেকে সঙ্গী বিচার করার সময় আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে কারণ এই ধরণের সংযোগ এমন একজন সঙ্গীকে ইঙ্গিত করে যিনি অপর সঙ্গীর জন্য ক্ষতিকারক হন।
যদি নভমসা লগ্নে সূর্য শক্তিশালী হয় অথবা নভমসা কুষ্টিতে ৩য় স্থানে চন্দ্র শক্তিশালী হয় তবে তা ইঙ্গিত করে যে ব্যক্তি তার সঙ্গীর থেকে দীর্ঘজীবী হন। D9 কুষ্টিতে বৃহস্পতি-শুক্র সংযোগ শিবের আশীর্বাদকে প্রদর্শন করে এবং এটি নভমসা কুষ্টি থেকে সঙ্গী গণনার ক্ষেত্রে সন্তানের জন্য শুভ।
যদি শনি নভমসা লগ্নে অবস্থান করে অথবা নভমসা লগ্নে দৃষ্টি দেয় তখন এটি বিবাহে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে। নভমসা লগ্নের ৭ম পতি ও শুক্রের ওপর শনির দৃষ্টি সমানভাবে ক্ষতিকর।
যখন সূর্য ৭ম স্থানে অবস্থান করে অথবা দারাপদ(A7) র সাথে যুক্ত থাকে তখন এটি সম্বন্ধ করে বিবাহের ইঙ্গিত দেয়।
D9 কুষ্টির ৭ম পতির ভীমসত্বারী দশা অথবা নভমসা লগ্নপতি অথবা নভমসায় ৭ম স্থানে অবস্থিত গ্রহ সমূহ অনুযায়ী বিবাহের সময় গণনা করা যেতে পারে। নভমসা কুষ্টি থেকে বিবাহ ও সঙ্গীর গুণাগুণ বিচার এবং বিবাহের সময় গণনা সহজ কাজ নয়। জন্মের ক্ষণ/সময়ও নির্ভুল হতে হবে।
নভমসা কুষ্টি থেকে সঙ্গী সম্পর্কে কিছু তথ্য আমি আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু মনে রাখবেন যে জ্যোতিষশাশ্ত্রে কোনো নিয়মই বিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে না। D1 এবং D9, উভয় কুষ্টির সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
যদি আপনি মনে করেন যে আমি কিছু বাদ দিয়েছি অথবা নভমসা কুষ্টি থেকে সঙ্গী গণনা সম্পর্কে আপনার কাছে কিছু তথ্য আছে তাহলে নির্দ্বিধায় কমেন্ট করুন।
যদি পছন্দ হয় তবে শেয়ার করুন।