আমার মতে জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ বর্তমান সময়ে আলোচনার জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়। বর্তমানে আমাদের সমাজে বিচ্ছেদের সংখ্যা উল্লেখ যোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রচুর মানুষ বৈবাহিক বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমার কর্ম জীবনে বহু মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন যে তাদের কুণ্ডলীতে বিবাহ বিচ্ছেদের যোগ আছে কিনা। এখানে আমি চেষ্টা করব কিছু অধিকাংশ করা প্রশ্নের উত্তর দেবার, যেমন জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ, বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য কোন গ্রহ গুলি সবথেকে বেশি দায়ী ,জন্মপত্রিকায় বিবাহ বিচ্ছেদের যোগ প্রভৃতি।
বিবাহ স্থির হয় স্বর্গ থেকে কিন্তু বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত এই পৃথিবীতেই নেওয়া হয়। একটি সুখী দাম্পত্য জীবন আমাদের জীবনে সার্বিক বৃদ্ধি, সুখ ও সমৃদ্ধি আনে। কিন্তু সবাই খুব ভাগ্যবান হয় না। বিবাহ বিচ্ছেদের অনেক কারণ থাকতে পারে কিন্তু এখানে আমরা শুধুমাত্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সূচকগুলি নিয়ে আলোচনা করব। কিন্তু আমি আপনাদের পরামর্শ দিতে চাই যে জন্মপত্রির যথার্থ মিলন বৈবাহিক বিরোধের সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে। কিন্তু কুন্ডলীর মিলনের ক্ষেত্রে অষ্টকূট গুণের মিলন যথার্থ পন্থা নয়। বিবাহের জন্য যথার্থ কুন্ডলীর নির্ধারণ হল কুষ্টিতে
জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্যে দায়ী গ্রহ এবং স্থান সমূহ
ক্ষতিকর গ্রহ, বিশেষত মঙ্গল, রাহু, শনি এবং সূর্য বিচ্ছেদ মূলক চরিত্রের হয়। তাই এই গ্রহ গুলি কুন্ডলীতে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুঘটকের ন্যায় কাজ করে। এগুলো ছাড়া আরও দুটি গ্রহও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর প্রভাব থাকা সত্বেও বিবাহ বিচ্ছেদ এড়ানোর ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী। প্রেম, ভালোবাসা, বিবাহ ও যৌন জীবনের ক্ষেত্রে প্রধান গ্রহ হল শুক্র। পুরুষদের কুষ্টির ক্ষেত্রে এটি স্ত্রীকেও সূচিত করে, সুতরাং শুক্র যদি পীড়িত, দুর্বল বা অবনতিশীল হয় তবে তা বৈবাহিক অস্থিরতার লক্ষণ। মহিলাদের কুষ্টির ক্ষেত্রে বৃহস্পতি স্বামীকে সূচিত করে। সুতরাং বৃহস্পতি যদি দুর্বল বা পীড়িত হয় তবে তা স্বামীর দিক থেকে দুঃখের লক্ষণ।
জন্মপত্রিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ যা বিবাহ বিচ্ছেদের লক্ষণ
জ্যোতিষ শাস্ত্রে বৈবাহিক স্থিরতা ও অস্থিরতা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের বিচারের জন্য প্রধান স্থান হল ৪র্থ,৭ম, ৮ম এবং ১২তম স্থান। এছাড়াও আমাদের উপপদলগ্ন ও তার ২য় স্থান পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
৪র্থ স্থান হল পরিবারের থেকে আনন্দ। যখন ৪র্থ স্থান বা তার মালিক পীড়িত হয় তখন পরিবারে সুখের অভাব দেখা দেয়। যদি ৪র্থ স্থান শক্তিশালী হয় ও তার মালিক সঠিক স্থানে থাকেন তবে জ্যোতিষশাশ্ত্রে অন্যান্য বিবাহ বিচ্ছেদের যোগ থাকা সত্বেও তা কখনোই চূড়ান্ত পরিণাম হবে না।
৭ম স্থান হল বিবাহের প্রধান স্থান। এটা শুধু বিবাহের ক্ষেত্রে না হয়ে সবধরণের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কার্যকরী। সুতরাং যখন ৭ম স্থান পীড়িত হয় ও তার মালিক দুর্বল হয় তাহলে এটা বোঝায় যে সেই ব্যক্তির ভাগ্যে সুখী বৈবাহিক জীবন থাকেনা। যদি সেখানে কোনো প্রতিরোধক না থাকে তবে সে বিবাহ নিয়ে ভুক্তভোগী হবে।
৮ম স্থান ব্যক্তির যৌন জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। সমস্ত স্থানের মধ্যে ৮ম স্থান হল সবচেয়ে অশুভ/ দুষ্ট স্থান। এটা জীবনের গোপন বিষয় নিয়ে বাধা বিপত্তির উদ্রেক করে। মোটের ওপর ৭ম স্থানের দিক থেকে দ্বিতীয় হয়ে এটা বিবাহের সমৃদ্ধির জন্য দায়ী হয়। যদি ৮ম স্থান পীড়িত হয় তখন ৮ম স্থানের মালিক ৭ম স্থান বা তার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এটা বিবাহের পক্ষে সবদিক থেকে নেতিবাচক হয়। এটা জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রধান স্থান।
১২তম স্থান যৌনকামনা তৃপ্তির স্থান বলে পরিচিত। ১২তম স্থান পীড়িত হলে যৌন জীবন দুঃখের হয় এবং যৌনজীবনের প্রতি আগ্রহের অভাব দেখা যায়।
অবশেষে আমাদের উপপদলগ্নের পরিস্থিতি দেখতে হবে। এটা হল ১২তম স্থানের অরুধা পদ। যেমন আপনি যদি বৃষলগ্ন নিয়ে জন্মান তাহলে আপনার ১২তম স্থানের মালিক হবেন মঙ্গল। যদি মঙ্গলকে কর্কটে স্থানান্তরিত করা হয় তবে তা ১২তম স্থান থেকে ৪ চিহ্ন দূরে হবে। আমরা আবার উপপদলগ্ন পাবার জন্য কর্কট থেকে ৪টে চিহ্ন গণনা করব। কর্কট থেকে ৪টে চিহ্ন যেমন তুলা হবে উপপদলগ্ন।
উপপদলগ্ন একজন ব্যক্তির সঙ্গে তার বৈবাহিক সঙ্গীর সম্পর্ক কেমন হবে তা প্রদর্শন করে। যদি শুভ ফল প্রদানকারী গ্রহগুলি উপপদলগ্নের সঙ্গে থাকে তবে তা সুখী দাম্পত্যকে সূচিত করে। জীবন সঙ্গীর চরিত্র, ধরন ও পূর্ব পরিচয় বিচারের ক্ষেত্রে উপপদলগ্নের মালিক ও তার সঙ্গে থাকা গ্রহগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। উপপদলগ্নের থেকে দ্বিতীয় স্থান বিবাহের স্থিরতা বা স্থিতিশীলতা কে প্রদর্শন করে। যদি উপপদলগ্ন থেকে দ্বিতীয় স্থানে ক্ষতিকর গ্রহ যেমন রাহু, মঙ্গল অথবা তাদের ক্ষতিকর প্রভাব থাকে তবে তা জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনাকে সূচিত করে।
জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ গণনার প্রাথমিক নীতি
জ্যোতিষশাশ্ত্রে অসংখ্য বিবাহবিচ্ছেদের যোগ আছে এবং তাদের সকলকে মনে রাখা খুবই কঠিন। সুতরাং আমি জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করছি।
- যদি লগ্নে ৭ম স্থানের মালিক ১২তম স্থানের মালিক ও রাহুর সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে তা জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যদি ১২তম স্থানের মালিক ৭ম স্থানে রাহুর সঙ্গে থাকে অথবা যদি ৭ম ও ১২তম স্থানের মালিক পারস্পরিক বিনিময়ের সম্পর্কে থাকে এবং রাহু গ্রহগুলির মধ্যে কোনো একটির সাথে যুক্ত থাকে তবে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনা প্রবল।
- যখন মঙ্গল ও শনির রাশিতে জন্ম হয় তখন যদি শুক্র লগ্নে অধিষ্ঠান করে এবং ৭ম স্থান পীড়িত হয়, স্ত্রী সঙ্গীকে ত্যাগ করে। চন্দ্র ও শুক্রের উপস্থিতি কে বিবাহ জীবনের পক্ষে অশুভ ধরা হয়। যদি এই বিন্যাস ক্ষতিকর প্রভাব দ্বারা পীড়িত হয় তখন কোষ্ঠী তে বিচ্ছেদের প্রবল লক্ষণ দেখা যায়।
- জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিচ্ছেদের অন্যতম শক্তিশালী বিন্যাস হল ৭ম স্থানে পীড়িত সূর্যের উপস্থিতি অথবা ৭ম স্থানের দুর্বল মালিকের সঙ্গে উপস্থিতি। এটা বিচ্ছেদের আরও বেশি প্রবল লক্ষণ হয় যখন শুক্র ও রাহু অথবা শনি ও রাহুও লগ্নে অবস্থান করে।
- ৬ষ্ঠ স্থান কোর্টে মামলা মোকদ্দমা প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা কোর্টের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করতে পারি না। যখন ৬ষ্ঠ স্থানের মালিক ৭ম স্থানে থাকে বা তার বিপরীত হয় বা ৬ষ্ঠ এবং ৭ম স্থান একসঙ্গে থাকে তখন দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বিচ্ছেদ ঘটে। ৬ষ্ঠ স্থান হল ৭ম স্থান থেকে দ্বাদশতম, সুতরাং এটি বিবাহের হানি ঘটায়। যখনই ৬ষ্ঠ স্থান বা তার মালিক বিবাহের সূচক শুক্রের সাথে যুক্ত হয়, তখন বিবাহ বিচ্ছেদ ডেকে আনতে পারে। ৭ম স্থানেও বিভিন্ন গ্রহ যেমন মঙ্গল, রাহু, শনি, সূর্য প্রভৃতির প্রভাব থাকে। এটা লক্ষ্য করা যায় যে ৪র্থ স্থান যখন ৬ষ্ঠ বা ৪র্থ স্থানের মালিকের দ্বারা পীড়িত হয় এবং ৬ষ্ঠ স্থান সঙ্গে থাকে তখন বৈদিক জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্ভাবনা খুবই প্রবল।
- যদি ৭ম স্থানের মালিক পীড়িত হয় এবং মঙ্গল, রাহু, সূর্য প্রভৃতি গ্রহেরা ৮ম স্থানে থাকে তাহলে জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ গণনা করা যায়। যদি ৭ম স্থান পাপকর্তারী যোগের মধ্যে পড়ে তাহলেও বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- যদি ৭ম পতি বক্রী হয় এবং ৮ম স্থান রাহু, মঙ্গল, সূর্য বা শনির পীড়িত হয় তখন বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনা থাকে। এই বিন্যাস সঙ্গে নিয়ে শুক্রও যদি বক্রী হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়।
- যদি ১২তম স্থানের মালিক ৪র্থ স্থানে থাকে অথবা ৪র্থ স্থানের মালিক যদি ৬ষ্ঠ, ৮ম বা ১২তম স্থানে থাকে, ৭ম স্থান যদি রাহু, সূর্য, শনি অথবা মঙ্গলের দ্বারা পীড়িত হয় এবং বিবাহের সূচক শুক্রও যদি দুর্বল বা পীড়িত হয় তবে কুষ্টিতে বিচ্ছেদের যোগ প্রবল।
- নভমসা লগ্ন থেকে ৭ম স্থানে ক্ষতিকর প্রভাব থাকলে এবং কুষ্টিতেও বিচ্ছেদের যোগ দেখালে তখন বিচ্ছেদ অবশ্যম্ভাবী বলা যায়।
- যদি রাহু–কেতু নভমসা লগ্নের ১ম–৭ম অক্ষে অবস্থান করে তাহলে এটা জ্যোতিষ শাস্ত্রে অসুখী বিবাহজীবনের প্রবল যোগ থাকে। যদি নভমসায় বিবাহের সূচক দুর্বল বা পীড়িত হয় তবে আরও অশুভ ফল দেবে।
- নভমসা কুষ্টিতে আমাদের নভমসা লগ্ন লক্ষ্য করতে হবে, ৭ম এবং ৮ম স্থান। যদি এইস্থান এবং তার মালিকেরা পীড়িত হয় তখন বিচ্ছেদের সম্ভাবনা বাড়ে। আমাদের নভমসা কুষ্টিতে রাশি ঘরের ৭ম স্থানের মালিকের পরিস্থিতি লক্ষ্য করতে হবে। নভমসায় শুক্র–কেতুর সংযোগ হল বিচ্ছেদের প্রবল লক্ষণ।
- উপপদ লগ্ন থেকে দ্বিতীয় স্থান যদি শনি, মঙ্গল, রাহু বা কেতু প্রভৃতি ক্ষতিকর গ্রহের দ্বারা পীড়িত হয় তাহলে তা বিবাহ ভেঙে দিতে পারে। যখন উপপদলগ্ন কেতুর দ্বারা সংযুক্ত হয় এবং শুক্র ১২তম স্থানে থাকে তখন তা বিচ্ছেদ এবং দুঃখজনক বৈবাহিক জীবনকে সূচিত করে।
এই গুলি হল বৈদিক জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রধান মৌলিক নীতি। আমাদের লগ্ন, চন্দ্র এবং নভমসা থেকেও এই পরিস্থিতি গুলি লক্ষ্য করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে গুরুতর পীড়ন থাকা সত্বেও বৃহস্পতির প্রভাব বিবাহজীবন কে রক্ষা করতে পারে।
জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সময়
এখন জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সময় বোঝার চেষ্টা করি। ৭ম স্থানের মালিকের নিজের দশাতেই বিচ্ছেদ ঘটতে পারে, যদি এটি ৬ষ্ঠ অথবা ৮ম স্থানের সাথে যুক্ত থাকে। ৪র্থ স্থানকে পীড়িত করা গ্রহগুলির সময় কালেও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটতে পারে, বিশেষত যখন তারা ৬ষ্ঠ, ৮ম এবং ১২তম স্থানেরও মালিক হন। জন্মপত্রিতে বিচ্ছেদ রাহু, মঙ্গল অথবা শনির সময়কালেও ঘটতে পারে, যদি তারা ৪র্থ, ৭ম অথবা ১২তম স্থানের সাথে যুক্ত থাকে এবং বিচ্ছেদ যোগের বিন্যাস তৈরী করে।
বিবাহ বিচ্ছেদের পরে অনেক মানুষ পুনরায় বিবাহ করেন। কিন্তু সবাই দ্বিতীয় বার হলেও সুখীদাম্পত্য জীবন পাবার মতো ভাগ্যবান হননা ।পরীক্ষা করুন আপনার কুষ্টিতে ২য় বিবাহের যোগ আছে কিনা
জ্যোতিষ শাস্ত্রে কুষ্টিতে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রতিকার
- গৌরী-শঙ্কর রুদ্রাক্ষ সঠিকপদ্ধতিতে রাখুন।এটা খুব কার্যকরী।
- প্রতিদিন ভগবান শিব এবংমাতা পার্বতীর পূজা করুন।
- বিবাহের পূর্বে কুষ্টির মিলন করানো উচিৎ
- প্রতিদিন ললিতা সহস্রনামা পাঠ করা উচিৎ।
বৈদিক জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ কে কিভাবে দেখতে হবে তার প্রচেষ্টা করলাম। আপনি আমার কাছে জ্যোতিষশাশ্ত্রের পরামর্শ নিতে পারেন।
যদি আপনি মনে করেন যে আমি কিছু বাদ দিয়েছি ,তাহলে মন্তব্য করতে ভুলবেন না। যদি আপনার এটা পছন্দ হয় তবে শেয়ার করুন।